একদিকে যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর উদ্বৃত্ত কোটি কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোষাগারে ফেরত যাওয়ার খবর পাওয়া যায়, ঠিক তখনই খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ থেকে ৫টি গ্রামের পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কার না করায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সর্ববৃহৎ এই এলাকাটিতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীসহ অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সামান্য বৃষ্টিতেই এটি চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ে। খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান উল্টে আহত হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেছেন এবং রাস্তাটির বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরে অন্তত ১০০ ফুট অংশ সংস্কারের আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই “আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই” এই অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেখানে প্রকল্পের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে, সেখানে জনদুর্ভোগ লাঘবে এমন অতিজরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন জরুরি বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চমহল এবং খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটির অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ অংশটুকু সংস্কার করে জন সাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।



















