দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও পোনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেওয়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গত সোমবার মধ্যরাত থেকেই হ্রদে নেমেছেন হাজারো জেলে। এতে দীর্ঘদিন বেকার থাকা জেলে পরিবার, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাঙামাটির চারটি ল্যান্ডিং ঘাটে আসতে শুরু করে হ্রদের তাজা মাছ। একই সঙ্গে চালু হয়েছে বরফকলগুলো, আর ঘাটে বেড়ে গেছে শ্রমিকদের ব্যস্ততা।
তবে প্রথম দিনে মাছের আকার কিছুটা ছোট হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে কাপ্তাই হ্রদ বৃহত্তর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজার অনুকূলে থাকলে এবং আগামীতে মাছের সাইজ বড় হলে এই ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় প্রথম দিকে বড় মাছ কিছুটা কম মিললেও পানি কমলে বড় মাছের উপস্থিতি বাড়বে।
গত অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হলেও, চলতি অর্থবছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে হ্রদের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।




















