বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে দেশের রফতানি খাত ও পাটশিল্পের এই নবযাত্রা এক যুগান্তকারী মাইলফলক।
দেশের বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদী লোকসান ও স্থবিরতা কাটিয়ে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার তিনটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এবং হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে পাট খাতে আসছে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ এবং সৃষ্টি হতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থান।
রাজধানীতে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই চুক্তির আওতায়—প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ লিজ নিয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড।
হ্যামকো গ্রুপ লিজ নিয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার ২৩৮ জনের। অন্যদিকে, খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সমপরিমাণ অর্থাৎ ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। এই তিনটি মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ২০টি মিল ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে লিজগ্রহীতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ৯টিতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ও সচিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনীতি ও পাটশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




















