শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ

পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর: ক্ষুব্ধ পর্যটক ও স্থানীয়রা

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যক্রম। সেবা দেওয়ার নামে এসব হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নিয়মিত বসছে মদ ও ইয়াবার আসর। সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত মদ্যপানে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আনাগোনার সুযোগ নিয়ে পতেঙ্গার বেশ কিছু নামে-বেনামে আবাসিক হোটেল ঘন্টা বা দিনভিত্তিক চুক্তিতে অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, রুম বয়দের মাধ্যমে অনায়াসে মিলছে মদ ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অসামাজিক কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হোটেল সমুদ্র বিলাস, হোটেল সি মুন, হোটেল বীচ ভ্যালি, হোটেল টানেল ভিউ।

এর মধ্যে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ ও ‘হোটেল সি মুন’ হোটেলের যাতায়াতের জন্য সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিশালাকার স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতেঙ্গায় পরিবার নিয়ে আসা শান্তিবাদ এলাকার এক নিয়মিত দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। এখন পরিবার বা স্ত্রী-কন্যা নিয়ে এসব হোটেলের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। নানাধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর নজরদারি বাড়ানো উচিত।”

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট হোটেল পরিচালকরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে সম্প্রতি একটি আবাসিক হোটেলে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, “মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রামের এই আকর্ষণীয় স্থানটিকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর: ক্ষুব্ধ পর্যটক ও স্থানীয়রা

প্রকাশিত: ০৫:২৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যক্রম। সেবা দেওয়ার নামে এসব হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নিয়মিত বসছে মদ ও ইয়াবার আসর। সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত মদ্যপানে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আনাগোনার সুযোগ নিয়ে পতেঙ্গার বেশ কিছু নামে-বেনামে আবাসিক হোটেল ঘন্টা বা দিনভিত্তিক চুক্তিতে অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, রুম বয়দের মাধ্যমে অনায়াসে মিলছে মদ ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অসামাজিক কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হোটেল সমুদ্র বিলাস, হোটেল সি মুন, হোটেল বীচ ভ্যালি, হোটেল টানেল ভিউ।

এর মধ্যে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ ও ‘হোটেল সি মুন’ হোটেলের যাতায়াতের জন্য সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিশালাকার স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতেঙ্গায় পরিবার নিয়ে আসা শান্তিবাদ এলাকার এক নিয়মিত দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। এখন পরিবার বা স্ত্রী-কন্যা নিয়ে এসব হোটেলের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। নানাধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর নজরদারি বাড়ানো উচিত।”

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট হোটেল পরিচালকরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে সম্প্রতি একটি আবাসিক হোটেলে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, “মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রামের এই আকর্ষণীয় স্থানটিকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।