শিরোনামঃ
Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের Logo বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প: দুর্গম পাহাড়ে দূর হচ্ছে দীর্ঘদিনের পানির সংকট ‎ Logo কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে নষ্ট না হয়: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় পেলেন কাপ্তাইয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান Logo খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেল ৮৬১ রোগী ‎ Logo রাঙামাটি জেলায় কোনো বৈষম্য থাকবে না: চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার ‎ Logo নানিয়ারচর জোনে পাহাড়ি-বাঙালি তরুণদের মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ শুরু Logo মহালছড়িতে ২৫ তরুণের মোবাইল রিপেয়ারিং প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদ বিতরণ ‎ Logo পাহাড়ে প্রযুক্তির আলো: রাঙামাটি সদর জোনে সেনাবাহিনীর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া হবে: পার্বত্য সচিব ‎

পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর: ক্ষুব্ধ পর্যটক ও স্থানীয়রা

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যক্রম। সেবা দেওয়ার নামে এসব হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নিয়মিত বসছে মদ ও ইয়াবার আসর। সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত মদ্যপানে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আনাগোনার সুযোগ নিয়ে পতেঙ্গার বেশ কিছু নামে-বেনামে আবাসিক হোটেল ঘন্টা বা দিনভিত্তিক চুক্তিতে অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, রুম বয়দের মাধ্যমে অনায়াসে মিলছে মদ ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অসামাজিক কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হোটেল সমুদ্র বিলাস, হোটেল সি মুন, হোটেল বীচ ভ্যালি, হোটেল টানেল ভিউ।

এর মধ্যে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ ও ‘হোটেল সি মুন’ হোটেলের যাতায়াতের জন্য সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিশালাকার স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতেঙ্গায় পরিবার নিয়ে আসা শান্তিবাদ এলাকার এক নিয়মিত দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। এখন পরিবার বা স্ত্রী-কন্যা নিয়ে এসব হোটেলের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। নানাধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর নজরদারি বাড়ানো উচিত।”

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট হোটেল পরিচালকরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে সম্প্রতি একটি আবাসিক হোটেলে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, “মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রামের এই আকর্ষণীয় স্থানটিকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের

পতেঙ্গায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আসর: ক্ষুব্ধ পর্যটক ও স্থানীয়রা

প্রকাশিত: ০৫:২৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যক্রম। সেবা দেওয়ার নামে এসব হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নিয়মিত বসছে মদ ও ইয়াবার আসর। সাম্প্রতিক সময়ে বিষাক্ত মদ্যপানে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আনাগোনার সুযোগ নিয়ে পতেঙ্গার বেশ কিছু নামে-বেনামে আবাসিক হোটেল ঘন্টা বা দিনভিত্তিক চুক্তিতে অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, রুম বয়দের মাধ্যমে অনায়াসে মিলছে মদ ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অসামাজিক কার্যকলাপে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— হোটেল সমুদ্র বিলাস, হোটেল সি মুন, হোটেল বীচ ভ্যালি, হোটেল টানেল ভিউ।

এর মধ্যে ‘হোটেল সমুদ্র বিলাস’ ও ‘হোটেল সি মুন’ হোটেলের যাতায়াতের জন্য সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিশালাকার স্টিলের ব্রিজ নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পতেঙ্গায় পরিবার নিয়ে আসা শান্তিবাদ এলাকার এক নিয়মিত দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে পরিবেশ অনেক ভালো ছিল। এখন পরিবার বা স্ত্রী-কন্যা নিয়ে এসব হোটেলের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। নানাধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর নজরদারি বাড়ানো উচিত।”

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট হোটেল পরিচালকরা। তাদের দাবি, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে সম্প্রতি একটি আবাসিক হোটেলে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এক সাংবাদিকসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী জানান, “মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রামের এই আকর্ষণীয় স্থানটিকে নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।