রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সরকারি একটি উন্নয়নকাজে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চলমান কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বিএম মার্কেটের ক্যাফে লিংক কফি হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরে এমএস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সাপ্লায়ার প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্লায়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সরকারি উন্নয়নকাজে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে তিনি নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় কাজটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি পরিচয়ে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যার হুমকি দেন এবং কাউখালীতে বাইরের কোনো ঠিকাদারের কাজ করতে হলে ‘সমন্বয়’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছির এবং যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আহত করেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধের লাইসেন্স হতে পারে না। জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি উন্নয়নকাজ এভাবে বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।




















