শিরোনামঃ
Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo কাপ্তাইয়ে বরইছড়ি মুসলিম সমাজের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ‎ Logo রাঙামাটিতে ১৩তম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি ও কারিগরি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ‎ Logo পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান—কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আলোচনা সভা Logo মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ফুড প্যাকেজ বিতরণ

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প: দুর্গম পাহাড়ে দূর হচ্ছে দীর্ঘদিনের পানির সংকট ‎

পৌর ও পাহাড়ি এলাকায় জিএফএস, রিংওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসারে হাসি ফুটেছে স্থানীয় মানুষের মুখে; কমছে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দূর হচ্ছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। পাহাড়ি জনপদ ও পৌর এলাকায় জিএফএস (গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং (বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ) ব্যবস্থার সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পের অধীনে বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেট উন্নয়ন, ৫টি নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ৮টি সংস্কার এবং প্রায় ২০০টি শৌচাগারের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

‎নতুন এসব স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ‘বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ (২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর)।

বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ প্রকল্পের আওতায় ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত, ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ, ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল এবং ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।

‎ঝিরি-ঝরনা বা বহুদূর থেকে পানি সংগ্রহের কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জিএফএস পদ্ধতির কারণে পাহাড়ে পানির জোগান অনেকটাই সহজ হয়েছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, পাহাড়ের মানুষের পানির সংকট দূর করতে চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

‎সরকারি এই বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রকল্পগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প: দুর্গম পাহাড়ে দূর হচ্ছে দীর্ঘদিনের পানির সংকট ‎

প্রকাশিত: ০৩:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পৌর ও পাহাড়ি এলাকায় জিএফএস, রিংওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসারে হাসি ফুটেছে স্থানীয় মানুষের মুখে; কমছে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দূর হচ্ছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। পাহাড়ি জনপদ ও পৌর এলাকায় জিএফএস (গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং (বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ) ব্যবস্থার সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পের অধীনে বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেট উন্নয়ন, ৫টি নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ৮টি সংস্কার এবং প্রায় ২০০টি শৌচাগারের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

‎নতুন এসব স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ‘বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ (২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর)।

বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ প্রকল্পের আওতায় ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত, ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ, ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল এবং ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।

‎ঝিরি-ঝরনা বা বহুদূর থেকে পানি সংগ্রহের কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জিএফএস পদ্ধতির কারণে পাহাড়ে পানির জোগান অনেকটাই সহজ হয়েছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, পাহাড়ের মানুষের পানির সংকট দূর করতে চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

‎সরকারি এই বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রকল্পগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।