মেয়ের কণ্ঠ নকল করে ৬ মাস ধরে প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ও ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমাইয়া আক্তার পরিচয় দিয়ে মিষ্টি মেয়েলি কণ্ঠে প্রেমে জড়ানো। এরপর বিশ্বাস অর্জন করে মোবাইল ফোনে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের ৬ মাস পরও বউকে সামনে না পেয়ে প্রবাসীর মনে জাগে সন্দেহ! শেষ পর্যন্ত জানা গেল, যাকে এতদিন স্ত্রী বলে জেনেছেন, তিনি বাস্তবে কোনো নারী নন—এক তরুণ! প্রবাসীর সর্বস্ব লুটে নেওয়া এমনই এক অভিনব প্রতারণার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নাটোরের লালপুরে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর সঙ্গে ইমোতে পরিচয় হয় ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের এক তরুণীর। সুমাইয়ার মিষ্টি কণ্ঠের জাদুতে অল্পদিনেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিপত্তি বাধে বিয়ের পরই। প্রবাসী স্বামী ভিডিও কলে কথা বলতে চাইলে নানা অজুহাতে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সুমাইয়া। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ছয় মাস।
অবশেষে তক্কে তক্কে থেকে প্রবাসী জানতে পারেন, ‘সুমাইয়া’ নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই ব্যক্তি আসলে কোনো নারী নন, তিনি মো. শান্ত আলী নামের ২০ বছরের এক তরুণ! মেয়ের কণ্ঠ নকল করে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই ভুয়া বিয়ের সম্পর্ক দেখিয়ে গত ছয় মাসে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে তিন লাখেরও বেশি টাকা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালায় লালপুর থানা পুলিশ। এ সময় মূল অভিযুক্ত শান্ত আলী এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানিয়েছে, লালপুরের বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া এলাক focusing করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোর মাধ্যমে প্রবাসীদের টার্গেট করে এমন প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




















