কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী পেপার মিলস পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের বড় উদ্যোগ; কারখানার কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়
পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম)-সহ দেশের সব রুগ্ণ কারখানা পুনরায় চালু ও লাভজনক করতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে বিদেশি বিনিয়োগ, বিএমআর (আধুনিকায়ন ও সংস্কার), সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) পদ্ধতি অনুসরণের চিন্তা করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কেপিএমের গেস্ট হাউসে কারখানাটির বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, কেপিএম একসময় অত্যন্ত লাভজনক এবং সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা কারখানাটিকে পুনরায় আগের মতো পুরোদমে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশের রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল ও লাভজনক করতেই সরকার কাজ শুরু করেছে।
এর আগে কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কারখানার বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, উৎপাদন সংকট এবং তা থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দিলদার হোসেন, কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল, কেপিএমের উৎপাদন বিভাগের প্রধান মঈদুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আবুল কাসেম রনি, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. মুজিবুর রহমান এবং কেপিএম সিবিএ সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু সরোয়ার।
সভায় যোগ দেওয়ার আগে বিসিআইসি চেয়ারম্যান গেস্ট হাউসে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে তিনি গেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং বিকেলে কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিসিআইসির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থবির হয়ে পড়া কেপিএমে ফিরবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















