শিরোনামঃ
Logo ‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৪৫০ রোগী Logo কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবি: রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান Logo মানিকছড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু ‎ Logo মানিকছড়িতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
চুরির অপবাদে শিশু-যুবককে হ্যান্ডক্যাপ পরানোর ছবি ও পরিচয় জানতে চাওয়ায় রূঢ় আচরণ; তদন্ত ও বিচারের দাবি সাংবাদিক মহলের।

রামগড়ে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তা: অভিযুক্ত থানার এসআই, ওসির ‘সাফাই’ নিয়ে ক্ষোভ

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্য দিবালোকে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে খোদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফাই গেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুন সোমবার উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাহেদ রানা জানান, তার বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি ঘর থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে ১৫ বছরের এক শিশু এবং ১৯ বছরের এক যুবককে সিভিল পোশাকে এসে হ্যান্ডক্যাপ পরাচ্ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। সাংবাদিক হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পুলিশের পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চান সাহেদ রানা।

এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এসআই আনসার আলী। উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনেই তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, তুই কে?সাহেদ রানা নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও চড়াও হন এবং বলেন, তুই কিসের সাংবাদিক, তোরা ভন্ড! বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিদের সাথে তোকেও থানায় নিয়ে যাব। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন রূঢ় আচরণ ও হুমকিতে ওই সাংবাদিক মানসিকভাবে চরম বিব্রত ও পেশাগতভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।

এই ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদকর্মীরা বলছেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেন। সেখানে বাধা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের ‘ভন্ড’ বলে হুমকি দেওয়া স্পষ্টত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রামগড় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিষয়টি রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলমকে অবহিত করলে, তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের কোনো বক্তব্য না শুনে উল্টো নিজের অধীনস্থ এসআই আনসার আলীর পক্ষ নিয়ে সাফাই গান বলে অভিযোগ উঠেছে। ওসির এমন ভূমিকায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়েছে।

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করার কথা থাকলেও, খাগড়াছড়ির এই ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

চুরির অপবাদে শিশু-যুবককে হ্যান্ডক্যাপ পরানোর ছবি ও পরিচয় জানতে চাওয়ায় রূঢ় আচরণ; তদন্ত ও বিচারের দাবি সাংবাদিক মহলের।

রামগড়ে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তা: অভিযুক্ত থানার এসআই, ওসির ‘সাফাই’ নিয়ে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ০১:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্য দিবালোকে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামগড় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনসার আলীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে খোদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফাই গেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুন সোমবার উপজেলার ফেনীরকুল স্কেল সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাহেদ রানা জানান, তার বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি ঘর থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে ১৫ বছরের এক শিশু এবং ১৯ বছরের এক যুবককে সিভিল পোশাকে এসে হ্যান্ডক্যাপ পরাচ্ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। সাংবাদিক হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পুলিশের পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চান সাহেদ রানা।

এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এসআই আনসার আলী। উপস্থিত এলাকাবাসীর সামনেই তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, তুই কে?সাহেদ রানা নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও চড়াও হন এবং বলেন, তুই কিসের সাংবাদিক, তোরা ভন্ড! বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিদের সাথে তোকেও থানায় নিয়ে যাব। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন রূঢ় আচরণ ও হুমকিতে ওই সাংবাদিক মানসিকভাবে চরম বিব্রত ও পেশাগতভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।

এই ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদকর্মীরা বলছেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেন। সেখানে বাধা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের ‘ভন্ড’ বলে হুমকি দেওয়া স্পষ্টত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. আনসার আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রামগড় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিষয়টি রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলমকে অবহিত করলে, তিনি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের কোনো বক্তব্য না শুনে উল্টো নিজের অধীনস্থ এসআই আনসার আলীর পক্ষ নিয়ে সাফাই গান বলে অভিযোগ উঠেছে। ওসির এমন ভূমিকায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়েছে।

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করার কথা থাকলেও, খাগড়াছড়ির এই ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।