রাঙামাটি জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ (প্রথম রাউন্ড)। আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার সাপছড়ি এলাকার মানিকছড়ি, মানিক লাল দেওয়ান কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা।
রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা। বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মংক্যছিং, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা খোকন চাকমা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কমল চাকমা এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক কিরণ ধর চাকমাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় মোট ৮৬ হাজার ৮৬০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬–১১ মাস বয়সী শিশু: ১০,৫৩৭ জন (১টি নীল রঙের ক্যাপসুল, ১ লক্ষ IU)
১২–৫৯ মাস বয়সী শিশু: ৭৫,৩২৩ জন (১টি লাল রঙের ক্যাপসুল, ২ লক্ষ IU) দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এক নজরে রাঙামাটির ক্যাম্পেইন চিত্র: বিবরণ সংখ্যা/পরিমাণ
মোট টিকাদান কেন্দ্র ১,২৯৭টি আওতাধীন এলাকা ১০টি উপজেলা, ২ট পৌরসভা, ৫০টি ইউনিয়ন, ১৫৯টি ওয়ার্ড নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ২,৪১৪ জন
ভিটামিন ‘এ’ কেন জরুরি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়। শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র ঘাটতি হলে রাতকানা রোগ, চোখের স্থায়ী ক্ষতি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা জেলার সকল অভিভাবককে তাদের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে সম্পূর্ণ খালি পেটে না খাইয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।



















