মাটির বুকে পরম যত্নে বুনেছিলেন স্বপ্নের চারা। ব্যাংক ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে দিনরাত এক করে গড়ে তুলেছিলেন এক সবুজ সমারোহ। কিন্তু এক রাতের বর্বরতায় সেই সাজানো বাগান এখন এক মহাশ্মশান! খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৬০০টি আম, পেয়ারা, কলা ও মরিচ গাছের চারা। এতে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. মকিম।
প্রায় ১ একর ক্ষতিগ্রস্ত চারা গাছ: প্রায় ৬০০টি (আম, পেয়ারা, কলা ও মরিচ) প্রায় ২,৫০,০০০ (আড়াই লাখ) টাকা
পুরোনো শত্রুতার জের, বারবার আঘাত ভুক্তভোগী কৃষক মকিমের অভিযোগ, ১ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে স্থানীয় বনি আমিন ও চাইহলাও মারমা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এটিই প্রথম নয়; এর আগেও ২০২৫ সালে উক্ত ভূমি থেকে প্রায় ৫০০টি আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল, যা নিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে এখনো মামলা চলছে। বারবার সামাজিক বিচার অমান্য করে এই চক্রটি মকিমের বাগানে হানা দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী মকিম বলেন, ঋণ নিয়ে বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। রাতারাতি আমার সব শ্রম আর বিনিয়োগ শেষ করে দেওয়া হলো। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের জের ধরে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


















