টানা ভারী বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। কমেনি বাঘাইছড়ি উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ। পাহাড় ধস আর বন্যার জোড়া আঘাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানিবন্দী হয়ে আছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ৬ দিনে জেলায় ১০৪টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিপন্ন মানুষদের জন্য খোলা হয়েছে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে এই মহাবিপর্যয়ের মাঝেই কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আসছে ভিন্ন খবর। লেকের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সচল করা হয়েছে কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট। দীর্ঘ বিরতির পর গত ৭ জুলাই থেকে একযোগে চালু রয়েছে ৫টি ইউনিট।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৫টি ইউনিট থেকে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। যার বিস্তারিত চিত্রটি দেখে নেওয়া যাক—ইউনিট নম্বর বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন
১ ও ২ নম্বর ইউনিট ৮৪ মেগাওয়াট (প্রতিটিতে ৪২ করে)
৩ নম্বর ইউনিট ৩৫ মেগাওয়াট ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট ৬০ মেগাওয়াট (প্রতিটিতে ৩০ করে) মোট উৎপাদন ১৭৯ মেগাওয়াট (সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট)।
কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, রুলকার্ভ বা স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ছিল ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট মিন সি লেভেল। কিন্তু বর্তমানে পানির উচ্চতা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি একদিকে যেমন রাঙামাটিবাসীর জন্য বন্যা ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এনেছে বড় স্বস্তি।



















