পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কতিপয় পক্ষের ‘সীমান্ত সড়ক বন্ধের’ দাবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। জোটের সাধারণ সম্পাদক জীবন চাক এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবি কোনোভাবেই পাহাড়ের সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে জীবন চাক আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত সড়ক বন্ধের দাবি মূলত ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও রাষ্ট্রীয় নজরদারি দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা। এর ফলে যেমন সাধারণ মানুষের বৈধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও হুমকিতে পড়তে পারে।
পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতা ও সশস্ত্র তৎপরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ বা সীমিত করার পরিবর্তে পাহাড়ে একটি নিরাপদ, আইনসম্মত ও জনবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কোনো সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকতে পারে, তবে তা যদি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার পরিপন্থী হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সাধারণ সম্পাদক পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে বিভাজন, সংঘাত ও অবরোধের পথ ছেড়ে আলোচনা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া বাঙালি ও অ-বাঙালি সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সমঅধিকার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।




















