পাহাড় ও হ্রদের জেলা রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মানবিক সংগঠন ‘নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন’। বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেলা শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভার আয়োজন করা হয়।
দুপুরে রিজার্ভ বাজার সিএনজি স্টেশন, লঞ্চঘাট এবং পাহাড়িকা বাস কাউন্টারের সামনে এ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় সংগঠনের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চালক, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং নিরাপদ যাতায়াতের বিভিন্ন নিয়মাবলি বুঝিয়ে বলেন।
সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নৌপথে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা মালামাল পরিবহন বন্ধ না করলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
পথসভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি সড়কের বাঁক ও নৌপথের ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাফিক আইন এবং নৌ আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। দুর্ঘটনা এড়াতে তারা প্রধান কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেন:
কোনো অবস্থাতেই ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করতে দেওয়া যাবে না। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে হবে এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখা নিশ্চিত করতে হবে। চালক ও নৌযানের মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন রাঙামাটি জেলার সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজমের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রাজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন:অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক),মো. ইভান শফি (সংগঠক),মো. শাহ আলম ও মো. ইমরান (সদস্য) এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এসআই মনোয়ার হোসেন, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা, স্থানীয় যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীবৃন্দ।
নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পথচারী ও চালকেরা। তারা জানান, পার্বত্য এলাকায় সড়ক ও নৌপথ দুটোই বেশ স্পর্শকাতর। নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলে মানুষ আরও সতর্ক হবে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।



















