সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কুমিল্লার দেবিদ্বারে ভিন্ন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দিল বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে দেবিদ্বার পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ যৌথভাবে পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা, দেবিদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
দেবিদ্বার পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দেবনাথের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ভুলে এ সময় একই সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী এবং জেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম-আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সীকে। দীর্ঘদিনের ব্যবধান ঘুচে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এমন যৌথ উপস্থিতি স্থানীয় সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝেও ব্যাপক উদ্দীপনার যোগান দেয়।
দেবিদ্বার বিএনপিতে অতীতে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা আমরা ভাঙতে পেরেছি। আজ সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করছেন।পরিদর্শনকালে আবেগঘন বক্তব্যে দেবিদ্বারে সম্প্রীতি ও রাজনীতির সুবাতাস বজায় রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সাবেক সদস্য সচিব তারেক মুন্সী।
বারের পূজা আমার জন্য কিছুটা ব্যতিক্রম ও বিশেষ অনুভূতির। কারণ, আজ আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আমার প্রাণপ্রিয় ভাইস্তা রেজভিউল আহসান মুন্সী। আমরা এক হয়ে দেবিদ্বারে সম্প্রীতি ও রাজনীতির সুবাতাস বজায় রাখব।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন, সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসান, দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান মোল্লা, সাবেক আহ্বায়ক ভিপি মাহফুজসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী।
পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সার্বক্ষণিক সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এতদিন ধরে চলা স্থানীয় দলীয় কোন্দল ও বিভাজন কাটিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এই যৌথ উপস্থিতি দেবিদ্বারে দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি ও ঐক্যের বার্তা বহন করছে।শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে।



















