পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুটি সশস্ত্র আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনার পর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং চাঁদাবাজির সরঞ্জামাদিসহ ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কমান্ডার জিমিত চাকমাকে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। আজ সকালে দুর্গম পাইন্দং এলাকায় সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোনের একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আজ আনুমানিক সকাল ০৭:৩০ ঘটিকায় পাইন্দং এলাকায় দুটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আকস্মিক বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। গোলাগুলির খবর পেয়ে গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি জোনের একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অত্যন্ত দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার অভিযান শেষে টহল দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সেখানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনার সময় ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কমান্ডার জিমিত চাকমাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তাবাহিনী মানবিক কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।
আটককৃত জিমিত চাকমার কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে: স্থানীয়ভাবে তৈরি পিস্তল ও তাজা গোলাবারুদ,ইউপিডিএফ-এর দলীয় বইপুস্তক,বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের নথিপত্র ও রসিদ বই
নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্রমতে, আটককৃত জিমিত চাকমা গত বছর খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও সংগঠক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সশস্ত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি পাহাড়ে বহুল আলোচিত রামসু বাজার সহিংসতা এবং ৩ জন উপজাতি হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ আগের একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
আহত জিমিত চাকমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাগড়াছড়ির গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



















