টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল শেষে রাঙামাটির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে এখনো দুর্ভোগ কাটেনি প্লাবিত অঞ্চলের মানুষের। জেলার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো অবস্থান করছেন প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা। এদিকে, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে জেলায় রেকর্ড ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি। কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ায় বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।
আকাশ মেঘমুক্ত হতে শুরু করায় রাঙামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে পানি কমলেও রেখে গেছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো জেলার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ৯৮০ জন মানুষ অবস্থান করছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র চলছে বাঘাইছড়িতে। এছাড়া কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও বরকলসহ অন্যান্য উপজেলাতেও দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন।
চলতি বর্ষণে রাঙামাটির জন্য বড় ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ধস। জেলায় মোট ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭টি বিলাইছড়িতে এবং কাপ্তাইয়ে ৩২টি। এই দুর্যোগে পাহাড়ধসের শিকার হয়ে বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর ও বিলাইছড়িতে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
দুর্গতদের সহায়তায় দুর্গম অঞ্চলগুলোতে তৎপরতা বাড়িয়েছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যাকবলিত ফারুয়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও। রাঙামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত পৌর জুনিয়র স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র ও কাটাছড়ি পাড়া পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০টি পরিবারের ২৪০ জনের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে, দুর্গম বরকল উপজেলার কলাবুনিয়ায় মানবিক হাত বাড়িয়েছে বিজিবির ৪৫ ব্যাটালিয়ন। সেখানে বিজিবির মেডিকেল অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৫০ জন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। লেকে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে লেকের পানির সমতল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট (এমএসএল), যা বিপদসীমার চেয়ে বেশ নিচে রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাঠ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



















