পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও এক শ্রমজীবী কৃষকের কষ্টের ফসল ধ্বংসের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি জেলা।
রাঙামাটিতে এক কৃষকের ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে ধ্বংস করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা। শনিবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে কাঠালতলী এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বনরূপায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন-এর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)-এর রাঙামাটি জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন কৃষক খলিলুর রহমান। কিন্তু চাঁদা দাবি করা হয় এবং সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাতের আঁধারে বাগানের প্রায় ১,৪০০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এক রাতেই সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যান এই অসহায় কৃষক। কান্নাভেজা কণ্ঠে ভুক্তভোগী কৃষক খলিলুর রহমান তাঁর ওপর চলা এই নির্মমতার বিচার ও নিরাপত্তা চান।
সমাবেশ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান।
লংগদুর শিবেরআগা এলাকায় পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন।পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আজকের প্রতিবেদনে এ পর্যন্তই, সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।









