অ-বাঙ্গালী (পাহাড়ি) জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক মহৎ ও দূরদর্শী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন বাইন্যাছোলা মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই এবং মুরং সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত ‘উপজাতিদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এই ক্লাবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল খান সজিবুল ইসলাম, পিপিএম, পিএসসি, জি (বিএ-৭৮৫০)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি জোন কমান্ডার মহোদয়কে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বাইন্যাছোলা মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল খান সজিবুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহুসাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ।
পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন অ-বাঙ্গালী (উপজাতি) সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ও অনন্য সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের পরিক্রমায় এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় যাতে এই অমূল্য ভাষা ও ঐতিহ্য হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই সংরক্ষণ ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে সর্বদা জনসাধারণের পাশে রয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সুধীসমাজ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ মাতৃভাষার সঠিক চর্চা, সাহিত্য এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন ও দক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উদ্বোধন শেষে জোন কমান্ডার বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কুশল বিনিময় করে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উৎসাহমূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।




















