বান্দরবান জেলায় দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন বন্ধ এবং নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের দোসরদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব হলরুমে ‘বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য’ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের প্রায় চার কোটি টাকার ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে ভুয়া বিল জালিয়াতির মতো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে ওএসডি করলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র এক মাসের মাথায় তাকে পুনরায় একই পদে বহাল করা হয়েছে। যা বান্দরবানবাসীর জন্য চরম অপমানজনক।
এছাড়া, টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বদলি করার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে বান্দরবানে বদলি করার এই বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলা এবং বিগত ১৬ বছরের লুণ্ঠনের সাথে জড়িত আসামিরা প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল আইনি পদক্ষেপের কারণে তারা সহজেই জামিন পেয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কয়েকটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে সিভিল সার্জন পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ ও তার দুর্নীতির বিচার,প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের রোয়াংছড়িতে বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল,বান্দরবানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তিমূলক বদলি প্রথা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দোসরদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।



















