পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মজিদকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ সরকারি জায়গা দখল এবং সংগঠন পরিপন্থী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ ২৭ জুন (২০২৬) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল মজিদকে ইতিপূর্বে গত ৮ জুন, ২১ জুন এবং ২৪ জুন তিন দফায় যথাক্রমে ৭ দিন, ৩ দিন ও ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিয়ে উল্টো সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। একই সাথে পিসিএনপি থেকে পূর্বে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমানের সাথে যুক্ত হয়ে দলীয় লিডারশিপের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
লিখিত বহিষ্কারাদেশ ও দলীয় সূত্রে আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মূল অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:
১.দলীয় গ্রুপিং ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড:২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলা পিসিএনপির সভাপতি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে নির্বাচিত বৈধ কমিটিকে সহযোগিতা না করে দীর্ঘ সময় ধরে সমান্তরাল গ্রুপিং বজায় রাখা। নিজেকে ভুয়া ‘জেলা আহ্বায়ক’ পরিচয় দিয়ে গত ২ ও ৭ জুন যথাক্রমে মহালছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার নির্বাচিত বৈধ কমিটি ভেঙে দিয়ে স্বৈরাচারী কায়দায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন।
২.ফ্যাসিস্টদের দোসর ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অবমাননায় সহযোগিতা: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং পিসিএনপির বহিষ্কৃত বিতর্কিত সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমানের লেজুড়বৃত্তি করা। উল্লেখ্য, কাজী মজিবর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচিত ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন। মজিদ তা জানা সত্ত্বেও তার সাথে অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।
৩.আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর সাথে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজি:** বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন মন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত লোক হিসেবে এলাকায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করা।
৪.৩ কোটি টাকার কাজ বিক্রি ও অর্থ আত্মসাৎ: পিসিএনপির নাম ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টের ৩ কোটি টাকার একটি সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ বাগিয়ে নিয়ে, তা অন্য পক্ষের কাছে ৪৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে সম্পূর্ণ অর্থ নিজের পকেটে ভরা এবং দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা।
৫.সরকারি জমি দখল ও মিথ্যাচার: সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করার অপরাধে পূর্বে দীর্ঘ মেয়াদে জেল খাটলেও, অতি সম্প্রতি পিসিএনপির প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় একই জায়গা দখল করতে যান, যা প্রশাসনের বাধায় পণ্ড হয় এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
৬. নেতৃত্বের প্রতি কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ:শোকজের জবাব না দিয়ে ‘স্থায়ী কমিটি’ নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি গ্রুপে পিসিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনিরকে নিয়ে অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানো।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির জানান, “সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে আমরা কোনো আপস করতে পারি না। মোঃ আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি জায়গা দখল ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের শতভাগ তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। তাই তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।
এই আদেশের অনুলিপি তিন পার্বত্য জেলার সভাপতি, স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সকল দলীয় অভিভাবকদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

























