শিরোনামঃ
Logo ‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৪৫০ রোগী Logo কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবি: রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান Logo মানিকছড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু ‎ Logo মানিকছড়িতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত Logo কাপ্তাইয়ে উজাড় হচ্ছে সবুজ পাহাড়: ‘রক্ষকই ভক্ষক’ প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল ‎ Logo বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জমকালো গণসংবর্ধনা ‎ Logo কাপ্তাইয়ের ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চান প্রবাসী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ Logo দীঘিনালা মিনি স্টেডিয়ামে রোববারের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি একাদশ Logo হিল ভিডিপির উদ্যোগে দীঘিনালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো ও হয়রানির অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদের বিরুদ্ধে সরকারি পরিচয় ও পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, পিতা—মৃত কবির আহমদ, গ্রাম—মহেশপুর, ডাকঘর—পীর মহেশপুর, থানা—দেবিদ্বার, জেলা—কুমিল্লা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে টেলিফোন লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সরকারি সিম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এলাকায় পুলিশের প্রভাব দেখান। কেউ কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা বিরোধে জড়ালে মামলা দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবি করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ দীর্ঘ সময় ধরে একই কর্মস্থলে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়েও তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যের বদলি ও পদায়নের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন একই ইউনিটে কর্মরত থাকার সুযোগ পেয়েছেন কি না, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি প্রশাসনিক ও পুলিশি মহলে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে কিংবা কোনো অভিযোগ করতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে—এমন কথাও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে তার চাকরির সুবিধা পাওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে যদি সত্যিই সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো পুলিশ সদস্য যেন সরকারি পরিচয় বা পদমর্যাদা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

‎লংগদু স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো ও হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৫:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদের বিরুদ্ধে সরকারি পরিচয় ও পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, পিতা—মৃত কবির আহমদ, গ্রাম—মহেশপুর, ডাকঘর—পীর মহেশপুর, থানা—দেবিদ্বার, জেলা—কুমিল্লা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে টেলিফোন লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সরকারি সিম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এলাকায় পুলিশের প্রভাব দেখান। কেউ কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা বিরোধে জড়ালে মামলা দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবি করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ দীর্ঘ সময় ধরে একই কর্মস্থলে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়েও তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যের বদলি ও পদায়নের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন একই ইউনিটে কর্মরত থাকার সুযোগ পেয়েছেন কি না, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি প্রশাসনিক ও পুলিশি মহলে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে কিংবা কোনো অভিযোগ করতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে—এমন কথাও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে তার চাকরির সুবিধা পাওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে যদি সত্যিই সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো পুলিশ সদস্য যেন সরকারি পরিচয় বা পদমর্যাদা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।